আমদানির খবরে পাইকারিতে কমলেও খুচরায় অপরিবর্তিত পেঁয়াজের দাম

দেশের বাজারে সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। এ কারণে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার।

দেশের বাজারে সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। এ কারণে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার। তবে আমদানীকৃত পেঁয়াজের চালান এখনো দেশে পৌঁছেনি। ফলে আমদানির খবরে পাইকারিতে কিছুটা কমলেও খুচরায় এখনো অপরিবর্তিত মসলাপণ্যটির দাম। খুচরায় বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১১৫-১২০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের চাক্তাই, কোরবানিগঞ্জ, আছদগঞ্জ ও পাহাড়তলির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১১৫ টাকায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কমে ১০৭ টাকায় নেমেছে। এছাড়া সাধারণ মানের দেশী পেঁয়াজ বেচাকেনা হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯৮-১০৫ টাকায়। মূলত দেশীয় পেঁয়াজের আকারের ওপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আমদানি বন্ধ থাকায় শুধু দেশী পেঁয়াজের ওপর এতদিন নির্ভরশীল ছিল দেশের বাজার। আমদানির আইপি (আমদানি অনুমতিপত্র) দেয়ার পর দেশে পেঁয়াজ পৌঁছতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে। এ কারণে পাইকারিতে দাম কিছুটা কমলেও খুচরায় এখনো ঊর্ধ্বমুখী দামেই বেচাকেনা হচ্ছে।’

সরকার দেশে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রেখেছিল। গত ৩ মার্চ থেকে আমদানি স্থগিত ছিল। পরে ১৪ আগস্ট পুনরায় আমদানির অনুমতি দেয়া হয় এবং সে অনুমতির ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। তবে মাত্র দুদিন পর ১৯ আগস্ট আবার তা বন্ধ করে দেয়া হয়। আগের অনুমতির ভিত্তিতে আমদানি কার্যক্রম চলে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর আবার তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

দেশের বাজারে এক মাস আগেও পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬৫-৭৫ টাকা। খুচরায় তা ছিল সর্বনিম্ন ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০-৮৫ টাকা। নতুন উৎপাদন মৌসুম আসার আগে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়েছে।

চলতি রবি মৌসুমে দেশে মুড়িকাটা বা স্কন্দ পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষার্ধে এসব পেঁয়াজের উত্তোলন শুরু হবে। এরপর আগামী বছরের শুরুতে হালি বা বীজ পেঁয়াজের আবাদ শুরু হবে। মূলত হালি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। মুড়িকাটা পেঁয়াজ স্বল্প সময় সংরক্ষণ করা যায়। এ কারণে মৌসুমের মধ্যেই বিক্রি ও ভোগ করতে হয়। দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় দেশী পেঁয়াজের উত্তোলন শুরুর আগে পর্যন্ত সরবরাহ বাড়াতে সীমিত আকারে হলেও আমদানির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

একসময় দেশে প্রতি বছর ১০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হলেও সাম্প্রতিক সময়গুলোয় তা অর্ধেকে নেমে আসে। দুই বছর ধরে আমদানির পরিমাণ আরো ৫০ শতাংশ কমেছে।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের দেয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ১০২ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ২৪৭ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সমুদ্রপথে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৩ হাজার ২০৯ টন। সমুদ্রপথে মূলত চীন, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়। পাশের দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয় দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে।

আরও